জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন মূল বেতনে বেতন বিল দাখিলের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন করে দেখা দিয়েছে কারিগরি জটিলতা। ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে iBAS++-এ লগইন করা গেলেও ‘Employee Pay Bill Entry’ অপশনে প্রবেশের পর ত্রুটি বার্তা প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর পক্ষে স্বাভাবিকভাবে বেতন বিল এন্ট্রির কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাচ্ছে না বলে প্রাপ্ত স্ক্রিনশটে দেখা গেছে।
সাধারণত মাসের ২১ তারিখ থেকে পরবর্তী মাসের বেতন পরিশোধের জন্য বেতন বিল প্রস্তুত ও দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এবার নতুন বেসিকে বেতন বিল তৈরির সময় এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে বেতন বিল দাখিল করা যাবে এবং নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী অক্টোবরের বেতন কবে পাওয়া যাবে?
সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পে-ফিকেশন কার্যক্রম এবং বেতন বিল এন্ট্রির কারিগরি কার্যক্রম এক নয়। ফলে একটি কার্যক্রমে অগ্রগতি থাকলেও অন্যটিতে সাময়িক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
লগইন করা গেলেও বেতন বিল এন্ট্রিতে ত্রুটি
২১ অক্টোবরের প্রাপ্ত স্ক্রিনশটে দেখা যায়, iBAS++ পোর্টালে প্রবেশের পর বাম পাশের মেনু থেকে ‘Budget Execution’ এবং ‘Online Pay Bill’ অপশনের অধীনে ‘Employee Pay Bill Entry’ নির্বাচন করা হয়েছে। এরপর মূল পর্দায় ‘SUBSCRIPTION CONFIGURATION’ শিরোনামের নিচে একটি ত্রুটি বার্তা প্রদর্শিত হচ্ছে। বার্তাটিতে ‘Error’ এবং ‘N’ লেখা রয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, অন্তত সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে বেতন বিল এন্ট্রির নির্দিষ্ট ধাপে সমস্যা হচ্ছে। তবে ত্রুটি বার্তাটি থেকে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
আইবাস++-এর বিভিন্ন মডিউলে আলাদা আলাদা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। লগইন, কর্মচারীর বেতনসংক্রান্ত তথ্য দেখা, পে-ফিকেশন, বেতন বিল প্রস্তুত এবং বিল দাখিল—প্রতিটি ধাপের কার্যকারিতা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাই শুধু লগইন সফল হলেই বেতন বিল দাখিলের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সচল রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
নতুন বেসিকে বেতন বিল দাখিল নিয়ে কেন উদ্বেগ?
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণের জন্য অক্টোবরের শুরুতে iBAS++-এর Pay Fixation সাব-সিস্টেমে কার্যক্রম শুরু হয়। অর্থ বিভাগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ, আগের বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাবও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ৪ অক্টোবর ২০২৬
পে-ফিকেশন অনুমোদিত হওয়ার পর নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু মাসিক বেতন বিল দাখিলের সময় সংশ্লিষ্ট মডিউলে সেই তথ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা কার্যকর থাকাও জরুরি।
এ কারণে নতুন বেসিকে বেতন বিল দাখিলের সময় কোনো কারিগরি বাধা দেখা দিলে সেটিকে পে-ফিকেশন বাতিল বা বন্ধ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। আবার পে-ফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে বলেই সব অফিসে বেতন বিল এন্ট্রি নির্বিঘ্নে চলছে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না।
আইবাস++ আপডেট কার্যক্রমের সঙ্গে কি সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইবাস++-এর আপডেট বা কারিগরি কার্যক্রমের কারণে বেতন বিল এন্ট্রিতে সমস্যা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রাপ্ত স্ক্রিনশটে আপডেট কার্যক্রমকে ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অর্থ বিভাগের iBAS++-সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও ব্যবহারবিধিতে কর্মচারীর বেতন, ভাতাদি, ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: অর্থ বিভাগ, iBAS++ ব্যবহার নির্দেশিকা
সুতরাং বর্তমান ত্রুটি সাময়িক সিস্টেম আপডেট, নির্দিষ্ট মডিউলের সমস্যা, তথ্যের অসংগতি কিংবা অন্য কোনো কারিগরি কারণে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হতে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
২২ বা ২৩ অক্টোবর থেকে কি বেতন বিল দাখিল করা যাবে?
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ২২ বা ২৩ অক্টোবর থেকে বেতন বিল এন্ট্রি ও দাখিলের সুযোগ স্বাভাবিক হতে পারে। তবে এ সময়সীমা সম্ভাব্য হিসাবেই বিবেচনা করতে হবে।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে পরবর্তী এক বা দুই দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অথবা সিস্টেমে বেতন বিল এন্ট্রি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।
তাই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ২২ বা ২৩ অক্টোবর থেকে বেতন বিল দাখিল শুরু হবে—এমন তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পে-ফিকেশন কার্যক্রম কি চলমান রয়েছে?
বেতন বিল এন্ট্রিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে পে-ফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++-এ পৃথক সাব-সিস্টেম ব্যবহারের বিষয়টি সরকারি নোটিশেও উল্লেখ রয়েছে। ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশিত হয়। সূত্র: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
এ থেকে বোঝা যায়, বেতন নির্ধারণের জন্য পৃথক প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কর্মচারীর পে-ফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা তাঁর নিজস্ব রেকর্ড ও অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করেই নিশ্চিত হতে হবে।
বেতন বিল এন্ট্রিতে সমস্যা হলে করণীয়
যেসব সরকারি অফিসে নতুন বেসিকে বেতন বিল এন্ট্রি করতে গিয়ে ত্রুটি দেখা যাচ্ছে, সেসব অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিডিওদের কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা উচিত।
- কিছুক্ষণ পর পুনরায় লগইন করে একই অপশনে প্রবেশের চেষ্টা করুন।
- সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পে-ফিকেশন অনুমোদন এবং নতুন মূল বেতনের তথ্য যাচাই করুন।
- একই ত্রুটি বারবার দেখা গেলে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস বা অনুমোদিত কারিগরি সহায়তা কর্তৃপক্ষকে জানান।
- তথ্যের অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী সংশোধনের ব্যবস্থা নিন।
- কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া অনুমানভিত্তিক বেতন বা ভাতার তথ্য পরিবর্তন করবেন না।
অক্টোবরের বেতন ও বকেয়া পাওয়ার বিষয়ে কী জানা যাচ্ছে?
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে আগের মাসগুলোর বকেয়া পাওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে কর্মচারীর গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত মূল বেতন এবং কার্যকর তারিখ অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের ওপর। সূত্র: বাসস, ৪ অক্টোবর ২০২৬
কোনো নির্দিষ্ট কর্মচারীর বেতন বিল এন্ট্রিতে সমস্যা দেখা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর বেতন বা বকেয়া নিশ্চিতভাবে আটকে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে সব কর্মচারী একই দিনে নতুন বেতন ও বকেয়া পাবেন, এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া যাচ্ছে না।
শেষ কথা
২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে iBAS++-এ লগইন করা গেলেও ‘Employee Pay Bill Entry’ অপশনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার বিষয়টি নতুন বেসিকে বেতন বিল দাখিলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে। প্রয়োজনীয় আপডেট বা সংশোধন সম্পন্ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সমাধানের সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পে-ফিকেশন, বেতন বিল এন্ট্রি এবং বিল দাখিলের অগ্রগতিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা। কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখে বেতন বিল দাখিল শুরু হবে কিংবা বেতন ও বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত—এমন দাবি না করাই যুক্তিযুক্ত।
সর্বশেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পাওয়া স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সিস্টেম সচল হওয়া বা কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনা পাওয়া গেলে তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

