সর্বশেষ
লোড হচ্ছে…

আজকের চাকরিসব দেখুন »

লোড হচ্ছে…

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিসব দেখুন »

লোড হচ্ছে…

সরকারি নোটিশসব »

লোড হচ্ছে…

ইউটিউব ভিডিওসব ভিডিও »

ভিডিও লোড হচ্ছে…

সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩টি উৎসাহ বোনাস পাবেন, নির্দেশিকায় যেসব নিয়ম



বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, তফসিলি বিশেষায়িত ব্যাংক, অ-তফসিলি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে কর্মরত কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস প্রদান নির্দেশিকা, ২০২৫’ জারি করে। 

এই নির্দেশিকায় উৎসাহ বোনাসের সংখ্যা নির্ধারণ, কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন, চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানভেদে অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিষয়ে নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস পাওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্যতা, নির্ধারিত শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনসাপেক্ষ। তাই সব কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি বোনাস পাবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্দেশিকার পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি বিবেচনা করা জরুরি।

বছরে কতটি বোনাস পাওয়া যাবে?

নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্মসম্পাদন মূল্যায়নে অর্জিত নম্বরের ভিত্তিতে উৎসাহ বোনাসের সংখ্যা নির্ধারিত হবে। সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস পাওয়ার সুযোগ থাকলেও কম নম্বর পেলে বোনাসের পরিমাণ কমবে।

কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন অনুযায়ী বোনাস

অর্জিত নম্বরবোনাসের সংখ্যা
৪০-এর কমকোনো বোনাস নেই
৪০ থেকে ৫০-এর কম১টি
৫০ থেকে ৬০-এর কম১.৫টি
৬০ থেকে ৭০-এর কম২টি
৭০ থেকে ৮০-এর কম২.৫টি
৮০ বা তার বেশি৩টি

সূত্র: আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশিকার ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

প্রতিটি বোনাসের অর্থ কীভাবে নির্ধারণ হবে?

প্রতিটি উৎসাহ বোনাসের অর্থ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ। সংশ্লিষ্ট হিসাব বছরের শেষ মাসে কর্মচারীর প্রাপ্য মূল বেতন ধরে বোনাসের হিসাব করা হবে। ফলে বোনাসের সংখ্যা এবং মূল বেতনের পরিমাণ—দুটিই চূড়ান্ত প্রাপ্ত অর্থ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারীর সংশ্লিষ্ট হিসাব বছরের শেষ মাসে মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা হলে সম্ভাব্য হিসাব হবে—

বোনাসের সংখ্যাসম্ভাব্য অর্থ
১টি৫০,০০০ টাকা
১.৫টি৭৫,০০০ টাকা
২টি১,০০,০০০ টাকা
২.৫টি১,২৫,০০০ টাকা
৩টি১,৫০,০০০ টাকা

এটি কেবল হিসাব বোঝানোর উদাহরণ। প্রকৃত অর্থ নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট হিসাব বছরের শেষ মাসের প্রাপ্য মূল বেতন, কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী।

শুধু মুনাফা করলেই হবে না, মূল্যায়ন হবে পাঁচটি সূচকে

নতুন নির্দেশিকার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উৎসাহ বোনাস নির্ধারণে শুধু ব্যাংকের পরিচালন মুনাফাকে বিবেচনা করা হবে না। বরং প্রভিশনসহ প্রাসঙ্গিক সমন্বয় বাদ দিয়ে নির্ধারিত নিট মুনাফা এবং অন্যান্য কর্মসম্পাদন সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রধান পাঁচটি সূচক হলো—

1. ওয়ার্কিং ফান্ডের ওপর নিট মুনাফার হার।

2. আমানত বৃদ্ধির হার।

3. ঋণ ও অগ্রিম বৃদ্ধির হার।

4. শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে নগদ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আদায়ের হার।

5. অবলোপন করা ঋণ থেকে নগদ আদায়ের হার।

এই সূচকগুলো থেকে বোঝা যায়, একটি ব্যাংকের আর্থিক ফলাফলের পাশাপাশি আমানত সংগ্রহ, ঋণ কার্যক্রম এবং খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণ আদায়ের অগ্রগতিও বোনাস নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব ব্যাংকের জন্য কি একই মূল্যায়ন পদ্ধতি?

না। প্রতিষ্ঠানভেদে মূল্যায়নের সূচকের সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি তফসিলি বিশেষায়িত ব্যাংক, অ-তফসিলি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ক্ষেত্রে তিনটি সূচক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পাঁচটি সূচক বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অ-তফসিলি বিশেষায়িত ব্যাংকের জন্য চারটি সূচক নির্ধারিত রয়েছে।

অর্থাৎ, সব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমের ধরন এক নয় বলে বোনাস মূল্যায়নের কাঠামোও এক রকম রাখা হয়নি।

চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী বোনাস পাওয়ার নিয়ম

নির্দেশিকায় চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় বোনাস দেওয়ার বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বছরে যত দিন চাকরিতে থাকবেন, প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী সেই মেয়াদের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে বোনাস নির্ধারিত হতে পারে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরে কমপক্ষে ছয় মাস চাকরিতে থাকার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবসর-পূর্ব ছুটিতে থাকা, চূড়ান্ত অবসরে যাওয়া কিংবা পদত্যাগ করা কর্মচারীদের বোনাসও চাকরির মেয়াদ ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী বিবেচিত হতে পারে। চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত কিংবা সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নির্দেশিকার নির্ধারিত শর্ত প্রযোজ্য হবে।

তাই শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেই পূর্ণ তিনটি বোনাস পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট হিসাব বছরে চাকরির মেয়াদ, কর্মসম্পাদনের ফলাফল এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

বোনাস ঘোষণায় কার অনুমোদন প্রয়োজন?

নির্দেশিকায় প্রতিষ্ঠানভেদে অনুমোদনের পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক: নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে নির্দেশিকা অনুযায়ী উৎসাহ বোনাস ঘোষণা করতে পারবে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশের ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে।

এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মিত উৎসাহ বোনাস দেওয়ার যোগ্য না হলেও বিশেষ অর্জন থাকলে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এক্স-গ্রেশিয়া হিসেবে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত অধিকার নয়; সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিবেচনা ও অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্দেশিকাটির গুরুত্ব

নতুন নির্দেশিকার ফলে উৎসাহ বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও কর্মসম্পাদনের ফলাফলকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কাঠামো তৈরি হয়েছে। আগে পরিচালন মুনাফার ভিত্তিতে বোনাস নির্ধারণের যে সুযোগ ছিল, নতুন নির্দেশিকায় তার পরিবর্তে নিট মুনাফা ও নির্ধারিত কর্মসম্পাদন সূচককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ভালো আর্থিক ফলাফল অর্জন, আমানত বৃদ্ধি, ঋণ আদায় এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি বোনাস দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। বিপরীতে, নির্ধারিত মূল্যায়নে কম নম্বর পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কম বোনাস পেতে পারেন, এমনকি কোনো বোনাস না-ও পেতে পারেন।

তবে সর্বোচ্চ তিনটি বোনাসের বিধানকে সব কর্মচারীর জন্য নিশ্চিত তিনটি বোনাস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি সর্বোচ্চ প্রাপ্যতার সীমা; বাস্তবে কতটি বোনাস দেওয়া হবে, তা নির্ধারিত হবে মূল্যায়নের ফলাফল, চাকরির মেয়াদ এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়া অনুসারে।

নির্দেশিকার মূল তথ্য এক নজরে

  • নির্দেশিকা জারির তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫।

  • সর্বোচ্চ উৎসাহ বোনাস: বছরে তিনটি।

  • প্রতিটি বোনাসের পরিমাণ: এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ।

  • বোনাস নির্ধারণের ভিত্তি: নিট মুনাফা ও কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন।

  • সর্বোচ্চ তিনটি বোনাসের জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর: ১০০-এর মধ্যে ৮০ বা তার বেশি।

  • ৪০-এর কম নম্বর পেলে: কোনো উৎসাহ বোনাস নেই।

  • নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে: সংশ্লিষ্ট বছরে কমপক্ষে ছয় মাস চাকরিতে থাকার শর্ত রয়েছে।

  • অনুমোদন: প্রতিষ্ঠানভেদে পরিচালনা পর্ষদ এবং প্রয়োজনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন।

সরকারি সূত্র: আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উৎসাহ বোনাস প্রদান নির্দেশিকা, ২০২৫।